পর্ণ আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় | পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়

পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

Table of Contents

পর্ণ আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়: নিষিদ্ধ জিনিসে বরাবরই মানুষের আগ্রহ একটু বেশি। সমাজের সার্বিক অবক্ষয়ের পেছনে যে বিষয়গুলো দায়ী সেগুলোতেই মানুষের তীব্র আসক্তি, যা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির মধ্যেই পড়ে। মাদকাসক্তি, চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতন, পর্ন আসক্তি প্রভৃতি বিষয়গুলো সমাজের অবক্ষয়ের কারণ। বর্তমান সমাজে পর্ণ আসক্তি (Porn Addiction) একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির নাম। সমাজে এটি এতটায় তীব্র আকার ধারণ করছে যেটিতে লাগাম টানা অতীব জরুরি নতুবা এই ভয়াবহ ব্যাধি একদিন গোটা সমাজের ধ্বংসের কারণ হবে।

ব্যক্তিজীবনের ঘোর কালো অমানিশার অন্ধকারের আরেক নাম পর্ণাসক্তি

পর্নোগ্রাফি ও মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুনে আসক্ত হয়ে অনেক ভাই-বোনের জীবন আজ বিষন্ন হয়ে গেছে। তিলে তিলে নিজেকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এখন উপলব্ধি করতে পারছে; জীবনে কী ক্ষতিটাই না করলাম। একটু সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের আশায় কত চেষ্টায় না তারা করছে। কিন্তু তারা যে মাদকাসক্তের চেয়েও ভয়ঙ্কর এক নেশায় আসক্ত। চাইলেও অনেকে এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না শুধুমাত্র সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে। 

আজকের এই দীর্ঘ লেখা জুড়ে আলোচনা করা হবে মানুষ কেন পর্ণাসক্ত হয়, পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাব এবং এই নীল জগত থেকে কীভাবে বের হয়ে আসা যাবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে। ধৈর্য্য ধরে পড়তে থাকুন; হয় পর্ণাসক্ত থেকে মুক্তি পাবেন নতুবা সতর্ক হবেন এই ঘোর কালো অন্ধকার জগত থেকে। 

পর্ণ আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়
পর্ণ আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়

পর্নোগ্রাফি আসক্তি কী (Pornography Addiction)

পর্নোগ্রাফি আসক্তি শব্দটি পর্ন আসক্তি, পর্ণ আসক্তি, Pornography Addiction, Porn Addiction প্রভৃতি নামে প্রচলিত। 

একজন ব্যক্তি যখন পর্ন দেখা শুরু করেন তখন তিনি এটিকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেন এবং যখন দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়া যখন চলতে থাকে তখন ব্যক্তি এই পর্নোগ্রাফির প্রভাবকেই স্বাভাবিক বলে মনে করা শুরু করে। বিষয়গুলো ব্যক্তি তার নিজের যৌন জীবনে পেতে চান এবং সেটি না পেলেও মনে মনে তার জীবনসঙ্গীর সাথে তুলনা শুরু করেন। যার প্রভাবে যৌন জীবন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পর্ণের কারণেই মূলত মানুষের ব্রেনে নিউরো কেমিক্যাল পরিবর্তন আসে। এর ফলে হতাশা, বিষন্নতাসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ব্যক্তি যখন সুযোগ পায় বা একা থাকেন, তিনি বারবার পর্ন দেখেন যা তার অভ্যাস হয়ে যায়। আর এই অভ্যাসটিই একসময় আসক্তিতে রূপান্তরিত হয় যার নাম পর্নোগ্রাফি আসক্তি (Pornography Addiction) বা পর্ণ আসক্তি (Porn Addiction)।

ড. হ্যারি ফিশ বলেছেন- “পর্ন হলো সেই কালপ্রিট যা আপনার যৌনজীবনের বারোটা বাজিয়ে দেবে”

শুধুমাত্র পুরুষ ও ছেলেরাই নয় বর্তমান সমাজে নারী ও মেয়ে এমনকি ছোট শিশুদের মধ্যেও পর্নোগ্রাফি আসক্তি চলে এসেছে৷ সমাজে যা খুবই ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। 

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৩-১৯ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। বর্তমানে সারাবিশ্বে যত ভিডিও ডাউনলোড করা হয় তার ৩৫% ভিডিও পর্নোগ্রাফির। 

একজন সাধারণ আমেরিকানের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭৮.৬ বছর কিন্তু একজন পর্ন অভিনেতার প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল হলো ৩৬.২ বছর।

২০০৩-২০০৪  সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ১৫০০ কর্মীর মধ্যে ২২৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এইডস্, আত্মহত্যা ও মাদক সেবন। 

২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একটি ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পরিবর্তন সনাক্ত করতে পারে। বিশেষ করে, P300 নামে একটি প্রতিক্রিয়াশীল ঘটনা। পর্নোগ্রাফি দেখার ৩০০ মিলি সেকেন্ডের মধ্যেই এই প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। গবেষণায় যুক্তি দেখানো হয় যে, একই প্রতিক্রিয়া ঘটে যখন একজন মাদকাসক্ত মাদক গ্রহণ করে।

পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাব

নিচে পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাবগুলো তুলে ধরা হলো:

  • পর্ণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
  • মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে।
  • পর্ন আসক্তি (Porn Addiction) মানুষের বৈবাহিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে থাকে ফলে সংসারে অশান্তি ও দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এতে সংসার ও সম্পর্কের অবনতি হয়।
  • পর্নোগ্রাফি আসক্তি জীবনের গুরুত্বকে মলিন করে দেয়। 
  • পর্ন আসক্ত ব্যক্তি জীবনের দায়িত্বগুলোকে সবসময় এড়িয়ে চলে কারণ এগুলোর কোনো মূল্য তার কাছে নেই। ফলে শুরু করেন দায়িত্বে অবহেলা।
  • পর্ণে আসক্ত ব্যক্তির মধ্যে নেতিবাচক আচরণ ও আচরণগত পরিবর্তন আসে। পর্ণ আসক্ত ব্যক্তি অনেকটায় বাধ্য হয়ে বারবার পর্ণ দেখে থাকে।
  •  ব্যক্তি নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করেন পর্ন ভিডিও দেখে দেখে। যা তার জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করার সাথে সাথে গুরুত্বপূর্ণ কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
  • ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামজিক জীবনের পাশাপাশি পর্ণ আসক্ত ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক দিকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
  • অতিরিক্ত পর্ণ আসক্তি সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে।
  • অনেক সময় নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা বোধ জন্মে, তৈরী হয় বিষন্নতা। 
  • একটা সময়ে পর্ন আসক্ত ব্যক্তি বিকৃত মানসিকতার হয়ে ওঠে। কারণ এটি আপনাকে যৌন বিকৃতি শেখাবে। এই বিকৃত যৌনাচারের ফলে আপনার জীবনসঙ্গী এইচআইভি, মলাশয়ের ক্যান্সার, হারপিস, গণোরিয়া, সিলিফিস, ক্ল্যামিডিয়া, গলার ক্যান্সার, হেপাটাইটিস এর মতো ভয়ঙ্কর রোগের শিকার হতে পারে।
  • মেয়েরা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশে স্কুলগামী কিশোরদের মধ্যে যারা পর্নে আসক্ত তাদের ৭০.৫৫% শারীরিকভাবে মেয়েদের উত্যক্ত করতে চায়।
  • ছেলে-মেয়ে উভয়ই বডিশেমিং এর স্বীকার হচ্ছে। 
  • সমাজে ধর্ষণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে যারা পর্ন আসক্ত তারা সবাই ধর্ষক নয় কিন্তু যারা ধর্ষক, সিরিয়াল কিলার, শিশু যৌন নির্যাতক, সমকামী তারা সবাই পর্ন আসক্ত। 
  • কাজ-কর্মে মনোনিবেশ না করার কারণে একসময় তার ক্যারিয়ার ধ্বংসের মুখে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে ব্যক্তির আর্থিক অবস্থায়।
পর্ন আসক্তির লক্ষণ ও পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাব
পর্ন আসক্তির লক্ষণ

পর্ণ আসক্তির লক্ষণ

আপনি পর্ন আসক্ত কিনা সেটির বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। অর্থাৎ যার মাধ্যমে বোঝা যায় কোনো ব্যক্তি পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছে কিনা। যদি আপনার মধ্যেও এসব লক্ষণ বিদ্যমান থাকে তাহলে বুঝতে হবে আপনি পর্ণে আসক্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক পর্ণ আসক্তির লক্ষণসমূহ:

  • পর্ণ আসক্ত ব্যক্তি সবসময় নিজেকে গুটিয়ে রাখার চেষ্টা করে। 
  • বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পরিবার সকলের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়।
  • নিজের কাজ ফেলে রেখে অধিক সময় পর্ণ দেখে নষ্ট করে।
  • নিজের সময় ও কাজ থেকে পর্ণ দেখাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। 
  • বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে পর্নোগ্রাফিকে বেছে নেয়।
  • পর্ন আসক্ত ব্যক্তি নিজেও বোঝে পর্ন দেখা ঠিক নয় তবুও সে বারবার একই ভুল করে থাকে কারণ সে অভ্যাসের স্বীকার। 
  • স্বাভাবিক যৌন জীবনের ছন্দপতন ঘটে।
  • অভ্যাসে পরিণত হলে তখন নিয়মিত পর্ন না দেখলে কোনো কিছুই ভালো লাগে না।
  • প্রথমে অল্প সময় ও পরে আপনি পর্ণ দেখায় অধিক সময় ব্যয় করবেন।
  • পর্ণ ভিডিও দেখার ডিভাইসটি সকলের থেকে লুকিয়ে রাখা।
  • নিজেকে একা ঘরে বন্ধ করে পর্ণ দেখা। 
  • নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে। 
  • নিয়মিত পর্ণ সাইট ভিজিট, ছবি ও ভিডিও দেখা। 
  • ব্যবহৃত ডিভাইসের হিস্ট্রি মুছে ফেলা, পাসওয়ার্ড পাল্টে ফেলা।
  • ওয়াশরুমে মাঝেমধ্যে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা।

আরও দেখুন

  1. ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় | ডিপ্রেশন দূর করার কার্যকরী উপায়
  2. ঘরে বসে IELTS প্রস্তুতি নিন নিজে নিজে
  3. ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ প্রতিরোধে করণীয় কী

শিশুদের মধ্যে পর্ন দেখার প্রবণতা ও এর থেকে বের হবার উপায়

প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যবহার সহজলভ্য হয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ইন্টারনেট যেমন একটি আশীর্বাদের নাম ঠিক তেমনি ইন্টারনেট ব্যবহার করেই অনেক শিশু-কিশোর আসক্ত হচ্ছে পর্নোগ্রাফিতে। বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও পর্ণ দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে যেসকল বাসা-বাড়িতে শিশুরা একা থাকে, বাবা-মা উভয়ই চাকুরিজীবী, মা-বাবার সাথে যেসব শিশুদের সম্পর্ক খারাপ তাদের মধ্যেই মূলত পর্ণ আসক্তি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া পর্ণ আসক্তদের একটি বড় অংশ হলো স্কুলগামী ছেলে-মেয়ে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলগামী ছেলেদের ৬১.৬৫ শতাংশ পর্ন দেখে ও ৫০.৭৫ শতাংশ ছেলে ইন্টারনেটে পর্ন খোঁজে।

“মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন” পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে রাজধানীর ৭৭ শতাংশ কিশোর পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। 

পর্ণ আসক্ত একটি শিশু মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে, অধিক পর্ণ দেখার প্রবণতা একটি শিশুর ভবিষ্যতকে ধ্বংস দিকে ঠেলে দিতে পারে। 

যখন আপনার নিষ্পাপ শিশুটি ধীরে ধীরে পর্ণ আসক্ত হয়ে পড়বে তার মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। অনেক বাবা-মা এটি বুঝতে পারেন অনেকেই আবার পারেন না। এতে করে শিশুটির সুন্দর শৈশব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বাবা-মাকে সবসময় সন্তানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ সন্তানের পর্ণ দেখার প্রবণতা সন্তানের ধ্বংসের কারণ। 

যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনার সন্তানের মধ্যে পর্ন দেখার প্রবণতা রয়েছে:

  • চঞ্চল শিশুটি যখন চুপ হয়ে যায়।
  • বাবা-মায়ের সাথে কথা বলা কমিয়ে দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখে।
  • সবসময় নিজেকে লুকিয়ে রাখার প্রবণতা।
  • মোবাইল বা ডিভাইস কাঁথা বা কম্বলের নিচে লুকিয়ে ব্যবহার করবে ও রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার করবে।
  • বন্ধুদের সাথে খেলতে না চাওয়া ও খেলার প্রতি অমনোযোগী হওয়া।
  • নিজেকে ঘরে বন্দী করে রাখা। আপনি হুট করে ঘরে ঢুকলেই সে চমকে যাবে ও তার মধ্যে অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা যাবে।
  • পড়াশুনায় অমনোযোগী। 
  • মেজাজ খিটখেটে হয়ে যাওয়া।
  • আগের চেয়ে ওয়াশরুমে দীর্ঘসময় কাটানো ও ফোন নিয়ে যাওয়া। 
  • শিশুদের রাত জাগার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া।
  • কেউ ঘরে ঢুকলেই ফোন-ল্যাপটপটি বন্ধ করে দেওয়া ও আতঙ্কিত হয়ে পড়া। ২০১২ সালের একটি জরিপে দেখা গিয়েছে ৮২% ছেলেমেয়েরা সুযোগ পেলেই মোবাইলে পর্ন দেখে।
  • কম্পিউটার বা ল্যাপটপের স্ক্রিন এমনভাবে ঘুরিয়ে রাখবে যেনো বাহিরের কেউ তা দেখতে না পারে।
  • স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা পর্নে এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে তারা ক্লাসেও পর্নোগ্রাফি দেখা শুরু করেছে। বাংলাদেশের একটি জরিপে দেখা যায় ৬২% শিক্ষার্থী ক্লাসে বসেই পর্ণ দেখে”।

শিশুদের মধ্যে পর্ণোগ্রাফির প্রবণতা বেড়ে গেলে তা থেকে অবশ্যই বের হয়ে আসা জরুরি। নয়তো তার সুন্দর ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়বে। এজন্য বাবা-মাকে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যেমন:

  • পর্নোগ্রাফি শিশুদের উন্নয়নে একটি বড় বাঁধা। অল্প বয়সে নারী-পুরুষের দেহের রসায়ন বুঝে ফেলায় তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ কাজ করে। একাকিত্ত্বের কারণে শৈশব ম্লান হয়ে কৈশোরে মাদক পিছু নেয় আর যৌবনে পা বাড়ায় আত্মহননের দিকে। তাই প্রত্যেক পিতা-মাতার উচিত তার সন্তান কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মেলামেশা করছে সে বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখা ও সজাগ থাকা। 
  • বাবা-মাকে অবশ্যই সন্তানের জন্য আলাদা সময় বের করতে হবে। সন্তানের সাথে কোয়ালিটিফুল সময় কাটান।
  • বাবা-মায়ের সাথে একটি শিশু যেনো সব কথা শেয়ার করতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এমনভাবে আপনার সন্তানের সাথে মিশুন যেনো তার আস্থা অর্জন করতে পারেন।
  • শিশুদের সাথে গল্প করুন, সময় দিন, সর্বোপরি তাদেরকে প্রাধান্য দিন। 
  • শিশুর মোবাইল, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতন থাকুন। বর্তমান যুগে এসকল উপকরণ শিশুর লেখাপড়ার অংশ হয়ে যাচ্ছে তবুও নির্দিষ্ট সময়ে এগুলোর ব্যবহার বাদে বাকি সময় এসব ডিভাইস দূরে রাখুন।
  • আপনার শিশু একা বদ্ধ ঘরে ডিভাইস ব্যবহার করলে তাদের দিকে খেয়াল রাখুন ও নিরুৎসাহিত করুন।
  • ছোট থেকেই পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পর্কে শিশুকে সজাগ করুন এবং ছোট ছোট দায়িত্ব তাকে দিন।
  • শিশুকে পারিবারিক ও নৈতিকতা সম্পর্কে শিক্ষা দিন
  • আপনার সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দিন।
  • আপনার সন্তানকে সঠিক যৌনশিক্ষা দিন। মূলত সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত যৌনজ্ঞান না থাকার কারণেই পর্ন আসক্তি জন্মে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। 
  • আপনার সন্তান পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে গেলে তাকে বকাবকি না করে বুঝিয়ে বলুন, তার অন্ধকারের গল্পগুলো শুনুন, তাকে লজ্জা বা তিরষ্কার না করে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিন। প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷ 

পর্নোগ্রাফি আসক্তির ক্ষতিকর দিক

  • অধিক পর্নোগ্রাফি আসক্ত মানুষ তার জীবনসঙ্গীর সাথে পর্ণ অভিনয় শিল্পীর পার্থক্য করতে পারেন না ফলে সে পর্ন শিল্পীর মতোই তার জীবনসঙ্গীকে কল্পনা করেন। এতে তার বৈবাহিক জীবনে অশান্তি হয়।
  • দীর্ঘদিন ধরে পর্ন আসক্ত ব্যক্তির বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। শরীরে টেস্টোস্টোরোনের (Testosterone) পরিমাণ কমে যায়, এর ফলে ক্লান্তি ভাব, বিষন্নতা, দুর্বল স্মৃতিশক্তি, মেরুদন্ডে ব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া, চুলপড়া, চর্বি জমা, হাড় ক্ষয়, স্বাভাবিক যৌনক্রিয়াতে অনীহা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, কম শারীরিক সক্ষমতা, পুরুষালি আচরণ কমে যাওয়া প্রভৃতি দেখা দেয়।
  • পর্ণে আসক্ত ব্যক্তির জীবনসঙ্গীর উপর প্রত্যাশা বেড়ে যায়। বাস্তবতা ছবির মতো নয় এটি সে ভুলে যায়।
  • এটি এমন একটি আসক্তি যা লুকানো সহজ নয়। কারো না কারো সামনে চলে আসে ফলে আসক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব হ্রাস পায়।
  • দীর্ঘদিনের পর্ন আসক্তি মানুষকে মস্তিষ্কের সাধারণ চিন্তা করার ক্ষমতাকে বাঁধাগ্রস্ত করে যা মানুষকে ধীরে ধীরে পর্ণে আরও আসক্ত করে। 
  • পর্ণ নেশার মতো। শুধুমাত্র মাদকের সাথে এর তুলনা নয়, এর তুলনা করা হয় কোকেইন, হিরোইনের সাথে। কোকেইন, হিরোইন সেবনে যেমন মস্তিষ্কের গঠন বদলে যায় সেরূপ বদলায় পর্ণ দেখলে। পর্ণ এমন একটি নেশার নাম যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে।
  • পর্ণ মানুষকে এতটায় আসক্ত করে যে সে এই নেশা ছাড়তে পারে না। এটি ব্যক্তির মস্তিষ্ককে ভালোভাবে প্রভাবিত করে ফলস্বরূপ সে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। 
  • পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তি একটা সময় পর ডিপ্রেশনে ভোগে যা কাটিয়ে ওঠা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়। 
  • অধিক আসক্তির ফলে ইন্টারনেটে অর্থ খরচ করে পর্ণ দেখা শুরু করে ফলে অর্থের অপচয় হয় ও আর্থিকভাবে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ফটোকপি, মোবাইল ফোনে গান বা রিংটোন ভরে দেওয়ার দোকানগুলোতে দৈনিক বিক্রি হচ্ছে ২.৫ কোটি টাকার পর্ন। 
  • শুরুর দিকে অনেকেই মাদকের সাথে পর্ণ দেখা শুরু করে। প্রথমদিকে এটি তার কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও একসময় তা আসক্তিতে পরিণত হয়। 
  • পর্ণ আসক্ত ব্যক্তিরা সকল ফোকাস পর্ণ দেখায় দিয়ে থাকেন এজন্য তারা অন্য কাজে ফোকাস ধরে রাখতে পারেন না। 
  • জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হন। 
  • পর্ন আসক্তির সাথে নারী নির্যাতনের সরাসরি যোগসূত্র আছে যা বহু গবেষণায় প্রমাণিত। পর্ন আসক্তি নারীদের প্রতি সহিংসতাকে তীব্রভাবে উৎসাহিত করে।
  • জীবনের প্রতি একসময় অনীহা জন্মে, নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা বোধ কাজ করে ফলে একটা সময় পর সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। 

পর্ন আসক্তি কারণ

বিভিন্ন কারণে পর্নে আসক্তি জন্মাতে পারে। যেমন:

  • আপনি যখন পর্ন দেখেন তখন শরীর থেকে ডোপামিন নামক এক ধরণের হরমোন নিঃসৃত হয়। ডোপামিনের মূল কাজ কম কষ্টদায়ক কাজের মাধ্যমে মস্তিষ্কের আরাম খোঁজা। যেহেতু পর্ণ দেখার সময় ডোপামিন নিঃসৃত হয় ও মস্তিষ্ক তৃপ্তি অনুভব করে তাই বলা যায় পর্ণ আসক্তির অন্যতম কারণ হলো ডোপামিন।  
  • পর্ণ আসক্তির আরও একটি অন্যতম প্রধান কারণ ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। ড. কার্লো ফরেস্টা বলেন- “ইন্টারনেট পর্ন তরুণদের যৌনক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে”
  •  মোবাইল, ল্যাপটপ যেকোনো স্থানে বহন করা যায় ফলে এটি মানুষ যেকোনো সময় দেখতে পারে এজন্যই আসক্তি বাড়ছে।
  • পর্ণ মানবপাচারের অন্যতম প্রধান কারণ। ৬-৮ লক্ষ নারী ও শিশু মানবপাচারের শিকার হয় এবং এদের বেশির ভাগেরই জায়গা হয় ইউরোপ-আমেরিকার পর্ন ইন্ডাস্ট্রি এবং পতিতালয়ে।
  • পর্ণ আসক্ত বিবাহিত নারী পুরুষের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পর্ণ আসক্ত জীবনসঙ্গীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের আশঙ্কা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আমেরিকার ৫৬% বিবাহ-বিচ্ছেদের মূল কারণ জীবনসঙ্গীর পর্ণ আসক্তি।
  • সুস্থ বিনোদনের অভাব।
  • সঠিক ও প্রাথমিক যৌনশিক্ষার অভাব।
  • অনেকেই আশেপাশের পরিবেশ থেকে প্রভাবিত হন।
  • শৈশবে নির্যাতনের শিকার হবার কারণে। 
  • বন্ধু-বান্ধবদের প্রভাবের কারণে পর্ণ দেখা শুরু করা। 
  • নৈতিকতার অভাবে। 
পর্নোগ্রাফি আসক্তির কারণ ও মুক্তির উপায়
পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

পর্ন আসক্তি যেমন আপনার ব্যক্তিত্ত্বকে নষ্ট করে তেমনি আপনার পবিত্র অনুভূতিগুলোকেও পিষে দেয়। পর্ন আসক্তির থাবা ভয়াল থাবা থেকে বের হয়ে আসতে হবে, খুঁজতে হবে মুক্তির পথ। 

জেনে নিন পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তির উপায়:

১. মন থেকে সিদ্ধান্ত নিন

আর কতকাল নীল আলোর অন্ধকার জগতে মুখ লুকিয়ে রাখবেন? বেরিয়ে এসে দেখুন পৃথিবী আপনার অপেক্ষায়। হয়তো সময় এসেছে। তাই মন থেকেই সিদ্ধান্ত নিন আপনি আর নীল দুনিয়ায় প্রবেশ করবেন না। পর্ন আসক্তি থেকে মুক্তির জন্য সর্বোপরি নিজেকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। পর্নোগ্রাফিকে তাই “না” বলুন।

২. লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

আপনার জীবনে যদি কোনো লক্ষ্য বা গোল না থাকে তবে আপনি কোনো খারাপ অভ্যাসকে চাইলেও ছাড়তে পারবেন না। তবে আপনার জীবনে যদি লক্ষ্য থাকে এবং আপনার যদি পর্ন ভিডিও দেখতে ইচ্ছা হয় তবে চোখ বন্ধ করে আপনার লক্ষ্যকে কল্পনা করুন আর নিজেকেই প্রশ্ন করুন পর্ণ দেখলে কি আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন নাকি এটিই হবে চরম বাঁধা। তখন আপনার আর পর্ন দেখতে ইচ্ছা হবে না। তাই জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। গোল সেট করুন আর সেই গোল পূরণের স্বপ্ন দেখুন। 

৩. ডিভাইস দূরে রাখুন

পর্ণ আসক্তির অন্যতম কারণ যেহেতু ডিভাইসের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার তাই ফোন, ল্যাপটপ এসব ডিভাইসকে দূরে রাখুন। কোনো ভাবেই আসক্তি কমাতে না পারলে বাটন ফোন ব্যবহার করুন। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। তবে তা ঘরের দরজা বন্ধ করে নয়। যেসকল সাইট থেকে পর্ণ দেখতেন তা ব্লক করুন বা ডাউনলোড করা ভিডিও, ছবি সবকিছু ডিলিট করুন। এতে আপনার পর্ণ আসক্তি ধীরে ধীরে কমে যাবে।

৪. বিপরীত জেন্ডারের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখুন

পর্ণ আসক্তির ফলে বিপরীত জেন্ডারের প্রতি যৌন আগ্রহ জন্মে। কিন্তু পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তির উপায় অন্যতম উপায় হলো বিপরীত জেন্ডারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া৷ বিশেষ করে মেয়ে ও নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হউন। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ফেলুন। মনে রাখবেন তারাও কারও বোন, মেয়ে বা মা৷ তাছাড়া জীবনসঙ্গিনীর সাথে স্বাভাবিক জীবন অতিবাহিত করুন। তাকে সম্মান করুন, তার মতামতকে প্রাধান্য দিন। 

৫. নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

আপনার অবশ্যই নিজেকে ব্যস্ত রাখা জরুরি। আপনি যখনই অলসতা করে কাজ করবেন না তখনই আপনার মনে বাজে চিন্তা আনাগোনা শুরু করবে এবং আপনি সেই নিষিদ্ধ কাজটিই করে ফেলবেন। তাই নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন সবসময়। প্রয়োজনে আগামীকাল কি কি কাজ করবেন তার একটি রুটিন বানিয়ে ফেলুন আগের দিন। ঘুমাতে যাবার আগে সেগুলোয় চোখ বুলিয়ে ঘুমাতে যান ও পরদিন নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করুন। আর যখন আপনার তীব্র আসক্তি হবে তখন যেসব কাজ করলে আসক্তি দূর হবে তার একটি তালিকা তৈরী করে সেগুলো করুন। 

৬. নিরিবিলি পরিবেশে ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করুন

যেহেতু পর্ন আসক্তি দীর্ঘদিনের তাই আপনি প্রথমে কয়েকদিন একনিষ্ঠ থাকলেও পরবর্তীতে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারেন। এজন্য নিজেকেই সজাগ থাকতে হবে। মন চাইবে নিরিবিলি পরিবেশ খুঁজতে ও সেখানে গিয়ে ডিভাইস খুলে পর্ণ দেখতে। এক্ষেত্রে মনের লাগাম টানুন, মনকে বোঝান। কোনো অবস্থাতেই নিরিবিলি পরিবেশে, বদ্ধ ঘরে ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না। আসক্তি দূর করতে ও মাইন্ড ডাইভার্ট করতে আপনার পছন্দের অন্য কোনো কাজে লেগে পড়ুন। মন ঘুরে গেলে আসক্তি কমতে শুরু করবে।

৭. স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন

পর্ন আসক্ত ব্যক্তিরা অধিক মানসিক চাপ নিতে পারে না। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বোধ হলেই সে পুনরায় নীল দুনিয়ায় প্রবেশ করে। তবে নিজেকে যতটা পারবেন স্ট্রেস ফ্রি রাখার চেষ্টা করুন। 

৮. সাপোর্টিং গ্রুপের সাথে থাকুন

আপনি হয়তো ভাবছেন আপনি একাই এই নীল আলোর মোহে জড়িয়ে যাচ্ছেন। এটা ভেবেই হয়তো আপনার মধ্যে লজ্জা, সংকোচ, হীন মানসিকতা  এগুলো কাজ করছে। নিজেকে অপরাধী মনে হতে পারে, এগুলো স্বাভাবিক। কিন্তু একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন আপনার মতো আরও অনেকেই আছেন যারা পর্ণে আসক্ত। তারাও ঠিক আপনার মতোই নিজেকে অপরাধী মনে করছেন। আপনি যদি শত চেষ্টা করেও পর্ণের প্রতি মোহ কমাতে না পারেন তবে আপনার উচিত আপনার মতো মানুষদেরকে খুঁজে বের করা যারা মুক্তি চায় কিন্তু পথ খুঁজে পাচ্ছে না। তাদের সাথে এগুলো নিয়ে আলোচনা করে একটি গ্রুপ তৈরী করুন, একে অন্যকে সাহায্য করুন এই আসক্তি থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসা যায়। আপনি অনেকটায় উপকৃত হবেন।

৯. আপনার পর্ণ আসক্তির বিষয়টি নির্দিষ্ট কারও সাথে শেয়ার করুন

আপনি যে পর্ণে আসক্ত এই বিষয়টি নির্দিষ্ট কারও সাথে শেয়ার করুন। অবশ্যই সে হবে আপনার খুব কাছের কেউ এবং তাকে অবশ্যই গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। আপনি এই বিভীষিকাময় অন্ধকার জীবনের কথা শেয়ার করে একটু হালকা হতে পারেন। বিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিন যিনি আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সঠিক পথ দেখাবে। অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাবে। 

১০. একা থাকার অভ্যাস ত্যাগ করুন

বাসায় একা থাকলে বা একা ঘুমালে আপনার আবার পর্ণ দেখতে ইচ্ছা হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি সেই সুযোগ নিজেকে দেবেন না। ঘরে, বাড়িতে বা রাতে ঘুমাতে গেলে একা থাকার অভ্যাস ত্যাগ করুন। রাতে কাউকে সাথে নিয়ে ঘুমাতে যান তাইলে আপনি আর পর্ণ দেখার সুযোগ পাবেন না। 

১১. নিজেকে ভরসা করুন

পর্ণ আসক্তি থেকে নিস্তার পেতে আপনার নিজেকে প্রতিজ্ঞা করা জরুরি। নিজেকে বোঝান, বিশ্বাস আনুন আপনি পারবেন এবং সর্বোপরি সৎ থেকে নিজেকে ভরসা করতে শিখুন। মনে মনে আত্মবিশ্বাস আনুন। নিজের প্রতি আস্থা জন্মালেই আপনি পর্ণ আসক্তি থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পাবেন।

১২. আপনার নীরবতা কাম্য নয়

সবসময় নীরব থাকলেও কিছু পরিস্থিতিতে স্বরব হওয়া প্রয়োজন। আপনার অন্ধকারের নীরবতা ভেঙে বেরিয়ে আসুন আলোর ভুবনে। আর কতদিন নিজেকে আড়াল করে গুমরে মরবেন। অন্ধকারের কান্না কেউ শোনে না। চার দেওয়াল ভেদ করে তা অন্য কারো কানে পৌঁছায় না। তাই এখনই সময় স্বরব হওয়ার। 

১৩. শরীরচর্চা করুন

পর্ণ আসক্তি থেকে বের হয়ে আসার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি। পর্ন আসক্তির ফলে মানুষ যে শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয় সেগুলোর কিছু কিছু রোগ নিরাময়ে শরীরচর্চা জরুরি। হাঁটুন, দৌঁড়ান, সাঁতার কাটুন, সাইকেল চালান, ব্যায়াম করুন, মোটকথা নিজেকে ফিট রাখুন। তবে শরীরের সাথে মনকে প্রশমিত করতে শরীরচর্চার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিটেশন করুন। এতে মানসিকভাবে আপনি আগের চেয়ে অনেক বেশি উৎফুল্ল থাকবেন। 

১৪. প্রকৃতির সান্নিধ্যে যান

মাঝেমধ্যে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যান। ঘুরে আসুন যেখানে মন চায়। নরম ঘাসে খালি পায়ে হাঁটুন, শিশির ভেজা ভোর দেখুন, বৃষ্টিতে ভিজুন, নীল আকাশ দেখুন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে গেলে মন খারাপ থাকে না।

১৫. খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করুন

যেসব বন্ধুরা আপনাকে পর্ণ সরবারাহ করে বা পর্ণ দেখতে প্ররোচিত করে তাদের থেকে দূরে থাকুন। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। 

আবার যে মানুষগুলো আপনার এই অবস্থার কথা জেনেও আপনাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করে, ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে তাদের থেকেও দূরে থাকুন। এরা আপনাকে সাহায্য করার বদলে আপনাকে সমস্যায় ফেলবে।

১৬. নিয়মিত ধর্মচর্চা করুন

যারা পর্ণ আসক্ত বা আসক্তি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন তাদের অবশ্যই নিয়মিত ধর্মচচা করা উচিত। মুসলিম হলে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন, রোজা রাখুন, কোরআন তেলোয়াত করুন, পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আল্লাহর কাছে। অন্য ধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টার নিকট প্রার্থনা করুন, ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করুন। নিয়মিত ধর্মচর্চার মাধ্যমে আপনি অবশ্যই মুক্তির উপায় খুঁজে পাবেন।

১৭. পরিবার ও জীবনসঙ্গীকে সময় দিন

পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকে মুক্তির জন্য আপনার পরিবার-পরিজনদের সাথে সময় কাটান। তাদের সাথে ঘুরতে যান, আড্ডা দিন। তারা আপনার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ সেই গুরুত্বকে অনুধাবন করুন। আপনার জীবনসঙ্গীকে আলাদাভাবে সময় দিন। তার সাথে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করুন। কারণ বাস্তবে অতিরঞ্জিত কোনো কিছুই সম্ভব নয় সেটি অনুধাবন করতে শিখুন। তাই চেষ্টা করুন সহজ জীবনধারা বজায় রাখতে।

১৮. বই পড়ুন

বই পড়ার চর্চা আপনার জীবন সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে। হয়তো ভাবছেন কিভাবে পর্ন আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না সেক্ষেত্রে বই আপনাকে সহায়তা করবে। বায়োলজিক্যাল বই পড়ুন তাছাড়া মোটিভেশনাল বই পড়ুন যেগুলো আপনাকে মোটিভেট করবে।

১৯. স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যোগদান করুন

বাংলাদেশ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে। আপনি চাইলে সেসব প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে তাদের সাথে কাজ করতে পারেন। এছাড়া বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কাজে অংশ নিতে পারেন। এসব কাজ আপনাকে মানসিকভাবে শান্তি দেবে।

২০. বিশেষজ্ঞের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

সকল পথ অবলম্বন করেও যদি আপনি পর্ণ আসক্তি কমাতে না পারেন তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনাকে অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সে প্রয়োজন অনুযায়ী আপনাকে পারসোনাল  কাউন্সেলিং, গ্রুপ কাউন্সেলিং, মাইন্ডফুলনেস, রিল্যাক্সেশন ব্যায়াম, মেডিসিন, থেরাপি দিতে পারেন। যা আপনাকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তাই এসব বিষয় লুকিয়ে না রেখে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

পর্নোগ্রাফি আসক্তি একটি দুর্বিষহ ভয়াবহ অন্ধকারের নাম। এই আসক্তির তীব্রতা এতটায় বেশি  যা আপনাকে গ্রাস করে ফেলবে। প্রথম দিকে বিষয়টিকে নিছক বিনোদনের মাধ্যম মনে হলেও ধীরে ধীরে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তাই সময় থাকতেই আপনাকে সচেতন হতে হবে কারণ বিনোদন যেনো অভ্যাসে পরিণত না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের  বিষয়ে সচেতনতা অবলম্বন করুন, বিশেষ করে বয়োঃসন্ধি কালে। এসময়ই অধিকাংশ সন্তান বিপথগামী হয়। আর আপনি কখনও পর্ণ আসক্ত হলে অবশ্যই কিভাবে এই নেশা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বন্ধ করার উপায়
পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বন্ধ করার উপায়

কীভাবে মোবাইলে পর্ন সাইট বন্ধ করতে হয়?

প্রথমে ফোনের Settings থেকে Wireless Connections অপশনে যেতে হবে। এরপর Private DNS অপশনটিতে যেতে হবে। Private DNS অপশনটিতে ক্লিক করার পর Designated private DNS অপশনে ক্লিক করুন। অতঃপর adult-filter-dns.cleanbrowsing.org এই লিংকটা পেস্ট করে সেভ করুন।

Shortcut: Settings>Wireless Connections>Private DNS>Designated private DNS>adult-filter-dns.cleanbrowsing.org>Save

ব্যস কাজ শেষ। এবার আর পর্নসাইটে ঢুকতে পারবেন না, এমনকি পর্ন সম্পর্কিত কিওয়ার্ড সার্চ করলেও ওই বিষয়ক কোনো রেজাল্ট আসবে না। 

প্রিয় পাঠক, কেমন লাগলো আমাদের আজকের লেখাটি। আশাকরি আপনারা পর্নোগ্রাফি আসক্তি, কারণ, লক্ষণ, মুক্তির উপায় প্রভৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেয়েছেন। আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের জানান।

Share
Tweet
Share
Pin
Share
Share
Tweet
Pin
Share
Subscribe
Notify of
guest
9 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
মুনকাসির হোসেন

কীভাবে পর্ণ সাইট বন্ধ করতে হয় এই বিষয়টি নতুন জানলাম। খুব ভাল লেগেছে লিখাটি। একদম বাস্তব বিষয় গুরো সুন্দর ভাবে বলা হয়েছে। যা সত্যিই অসাধারণ।

Sajib miah

পর্ণ আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় | পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকে বাঁচার উপায় এর পিডিএফ চাই

StudyKoro

প্রিয় পাঠক, অনুগ্রহ করে এই পোস্টে উল্লেখিত নিয়মে চলে দেখুন। আশাকরি এসকল পদ্ধতি অনুসরণ করে পর্ণাসক্তি থেকে বাঁচতে পারবেন।

আহনাফ তাহমীদ

বারকাল্লহু ফী ‘ইলমিকুম ওয়া হায়াতিকুম

StudyKoro

ওয়া আনতা ফা বারকাল্লহু ফী ইলমিক ওয়া হায়াতিক

Sowhardo

Zazakallah khair bhai. Onek onek thanks.

StudyKoro

ওয়া’আনতুম ফাজাযাকুমুল্লাহু খায়রান

Monir Chowdhury

পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে অনেক তথ্যবহুল ও উপকারী লেখার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

StudyKoro

সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

ক্যাটাগরি

আমরা আরও যেখানে আছি

তথ্যবহুল ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
1 S
স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
ধন্যবাদ
StudyKoro
Facebook

StudyKoro

ভার্চুয়াল তথ্য ভাণ্ডারকে বাংলা কন্টেন্ট সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে স্টাডিকরো কাজ করে চলেছে।

Happy
আপনি উপকৃত হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছি।

নিবন্ধটি থেকে আপনি কেমন উপকৃত হয়েছেন তা আমাদের জানাতে ভুলবেন না যেন।

Sad
দুঃখিত কী সমস্যা?

পরবর্তী নিবন্ধটি আরও ভালো করতে আপনার সমস্যাটি অনুগ্রহ করে আমাদের জানান।

নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

স্টাডিকরো’র গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ই-মেইল দিয়ে সাবস্ক্রাইব করুন।

আপনার প্রাইভেসি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ

Thank you
১ মিনিট!
১ মিনিট ধরে সাইটে থাকার জন্য ধন্যবাদ

স্টাডিকরো.কম সম্পর্কে আপনার কোনো অভিমত থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের জানান, যাতে আমরা স্টাডিকরোকে আরও সুন্দর করতে পারি।

শেয়ার করুন অন্যদের সাথে

Scan QR Code